বাবা ঠিকঠাক আছেন তো? একটি সত্যি গল্পের আদলে গড়া — প্রতিটি পরিবারের জন্য
“ভালোবাসা মানে শুধু জিজ্ঞেস করা নয় —
ভালোবাসা মানে সত্যিটা জানা।”
Pressure পরিমাপ করা কেন জরুরি? গল্পের আদলে গড়া প্রতিটি কথাই গুরুত্বপুর্ণ
দৃশ্য ১ — ঢাকার একটি সন্ধ্যা
রাফি অফিস থেকে ফেরে রাত আটটায়। গাড়িতে বসে মোবাইল বের করে, একটু ইতস্তত করে, তারপর ফোন দেয় গ্রামের বাড়িতে।
“ভালো আছি রে। তুই কেমন আছিস? খেয়েছিস?”
“হ্যাঁ বাবা, খেয়েছি। আপনি ঠিকমতো ওষুধ খাচ্ছেন তো?”
“হ্যাঁ হ্যাঁ, খাচ্ছি। তুই চিন্তা করিস না।”
রাফি ফোন রাখে। একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে — বাবা ভালো আছেন।
কিন্তু কতটুকু জানে সে?
দৃশ্য ২ — তিন মাস আগের একটি সকাল
আমিনুর রহমান সাহেব, বয়স বাষট্টি। প্রতিদিন ভোরবেলা উঠে কোরআন পড়েন, একটু হাঁটেন, তারপর চা খান একা একা বারান্দায় বসে। জীবনটা শান্ত, সহজ।
সেদিন সকালেও সব ঠিকঠাকই ছিল। তিনি নিজেও বুঝতে পারেননি যে তাঁর শরীরের ভেতরে কোথাও একটা নীরব যুদ্ধ চলছে। কোনো ব্যথা নেই, কোনো মাথা ঘোরা নেই — শুধু একটু ক্লান্তি, যেটাকে তিনি ভেবেছিলেন বয়সের দোষ।
ডাক্তার বললেন পাড়ার ক্লিনিকে গিয়ে হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার পর।
“১৭০ এর উপরে। এটা কতদিন ধরে হচ্ছে জানেন?”
আমিনুর সাহেব চুপ করে রইলেন। তিনি জানেন না।
কেউ জানে না।
দৃশ্য ৩ — সেই রাতে রাফির ফোন
রাফির মোবাইল বেজে উঠল রাত এগারোটায়। মায়ের নম্বর।
রাফির হাত থেকে মোবাইল প্রায় পড়েই গেল। কানে বাজতে লাগল নিজের কণ্ঠস্বর — “বাবা, কেমন আছেন?” আর বাবার উত্তর — “ভালো আছি রে।”
সে রাতে রাফি বুঝল — “ভালো আছি” মানেই সত্যি ভালো থাকা নয়। বাবারা কখনো ছেলেকে চিন্তায় ফেলতে চান না। তাঁরা বলেন না। তাঁরা সহ্য করেন।
দৃশ্য ৪ — সাত দিন পরে
হাসপাতাল থেকে বাবাকে বাড়ি নিয়ে ফেরার পথে রাফি একটা ছোট সাদা বাক্স কিনল। Cares BD-এর ব্লাড প্রেশার মনিটর।
বাড়ি পৌঁছে সে বাবার হাতে রাখল। বাবা অবাক হয়ে দেখলেন।
“বাবা, প্রতিদিন সকালে মাত্র ৩০ সেকেন্ড। শুধু একটু চেক করবেন। আমাকে ছবি তুলে পাঠাবেন।”
বাবা হাসলেন — সেই পুরনো, চেনা হাসি।
“এত চিন্তা করিস কেন?”
“কারণ আপনি আমার বাবা।”
সেদিন থেকে প্রতিটা সকালে রাফির ফোনে একটা ছবি আসে — ছোট একটা স্ক্রিনে সংখ্যা দুটো। আর সেই সংখ্যার নিচে বাবার বার্তা — “আজকে ঠিকঠাক আছে।”
এখন রাফি সত্যিই জানে।